"মোজাইক রোগ কি? কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার।"
মোজাইক রোগ কি?
ফসলের পাতায় যদি গাঢ় ও হালকা হলুদ-সবুজ এর ছোপ ছোপ রং দেখা যায় তখন এ রোগকে মোজাইক রোগ বলে ।
এই রোগটি পেঁপে, টমেটো, মরিচ, বেগুন, কাঁচা, বোতলজাতি, কুমড়া, শসা এবং গ্রীষ্মের স্কোয়াশের ফসলের ক্ষতি করে ।
মোজাইক রোগের কারণ:
জাব পোকা ও সাদা মাছি দ্বারা গাছ মোজাইকরোগের ভাইরাস সংক্রমিত হয়। কোন আক্রান্ত উদ্ভিদ থেকে জাব পোক খাদ্য গ্রহণ করলে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে ভাইরাস পোকার দেহে চলে আসে এবং সাথে সাথে কোন সুস্থ উদ্ভিদে বসলে উহা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়।
পোকার দেহে ভাইরাস সংখ্যা বৃদ্ধি করেনা। যদি বাগানের গাছগুলো পোকার খুব কাছা কাছি অবস্থান করে এবং বাগানে জাব পোকার সংখ্যা খুব বেশী থাকে তাহলে এ রোগ খুব দ্রুত ছড়ায় এবং ৪ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বাগান এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়। গাছ ছাঁটার সময় যান্ত্রিক ভাবে এ রোগ বিস্তার ঘটাতে পারে।
মোজাইক রোগের লক্ষণ :
- মোজাইক ভাইরাসে আক্রান্ত গাছের পাতাগুলিতে দাগ দেখা যায়।
- আক্রান্ত পাতার রং সবুজ এবং হালকা হলদে সবুজ বর্ণের দাগ দেখা দেয়।
- এমনকি শিরা-উপশিরাও হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা আকারে ছোট এবং অনিয়মিত হয়ে যায়।
- লতার পর্বমধ্য খাটো হয়ে যাওয়ার ফলে গাছ খাটো হয়ে যায়।
- কচি পাতা সরু হয়ে কুঁচকে এবং খসখসে হয়ে যায়।
- অধিক আক্রমনে পাতা ও গাছ মরে যায়।
- আক্রান্ত ফলের উপর পানি ভেজা গোলাকার দাগ পড়ে এবং দাগের মধ্যবর্তী স্থান শক্ত হয়ে যায়।
- উদ্ভিদ জন্মের সাথে সাথে এ রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে । সংক্রমণের ৩০-৪০ দিন এর মধ্যেই প্রথম রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় ।
ছবি: পেপেঁর মোজাইক রোগ (গুগল)
মোজাইক রোগ প্রতিরোধ :
- জমিতে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পেলে সাথে সাথেই রোগাক্রান্ত গাছ উঠিয়ে মাটি চাপা দিতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবেচাষের জন্যে ববহৃত সরঞ্জামকে সবসময় জীবানুমুক্ত রাখুন।
-ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিসমূহকে ০.৫২৫% সোডিয়াম হাইপোক্লোরেট দ্রবণে চুবিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
- লিফহপার বা জাব পোকা প্রতিরোধের জন্য চারা দিয়েই শুরু করুন, ১০ দিনের ব্যবধানে প্রতি লিটার পানিতে rogor এবং metasystox ০১ মিলি লিটার পানিতে দ্রবীভূত করে ছিটিয়ে দিন।
- জাল দিয়ে পুরো জমি ঢেকে ফেলতে হবে যেন এফিড নামক পতঙ্গ দ্বারা নতুন গাছ আক্রান্ত না হতে পারে ।
- চারা লাগানোর প্রথম থেকেই নিয়মিত পেস্টিসাইড স্প্রে করলে এফিড পতঙ্গ দ্বারা রোগ ছড়ায় না।
- রোগাক্রান্ত জমিতে পেঁপে গাছের প্রুনিং (পাতা কাটা , ছাঁটা ইত্যাদি ) বন্ধ রাখতে হবে, কারণ কাটা ছেড়া স্থান দিয়ে রোগাক্রম ঘটে থাকে।
#তাকদীর কতৃক প্রস্তুতকৃত।
.jpeg)
.jpeg)
No comments