🕋জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন: করণীয় ও বর্জনীয়
🕋 জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন:
করণীয় ও বর্জনীয়
📖 কুরআন ও হাদীসের আলোকে
📖 কুরআনের আলোকে
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"وَٱلْفَجْرِ • وَلَيَالٍ عَشْرٍ"
"শপথ ফজরের এবং দশ রাত্রির।"
— (সুরা ফজর, আয়াত ১-২)
🔹 মুফাসসিরগণ (তাফসিরবিদগণ) বলেছেন, এখানে "দশ রাত্রি" বলতে জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাত (বা দিন) বোঝানো হয়েছে।
✅ ইবনে কাসীর রহ. বলেন, এ দশ রাত হল জিলহজের প্রথম দশ দিন, যার ফজিলত অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে অধিক।
📜 হাদীসের আলোকে
✅ ১. আমলের গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
"আল্লাহর কাছে এমন কোনো দিন নেই, যেদিন সৎকর্ম করা এই দশ দিনের চেয়ে বেশি প্রিয়।"
সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! জিহাদও না?”
তিনি বললেন, “জিহাদও না, তবে যে ব্যক্তি নিজের জান ও মাল নিয়ে জিহাদে বের হয় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।”
— (সহীহ বুখারী: ৯৬৯)
📌 এই হাদীস প্রমাণ করে যে, জিলহজের প্রথম দশ দিনের ইবাদতের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ।
✅ করণীয় আমলসমূহ
🟢 ১. নেক আমলের প্রতিযোগিতা করুন
📌 রাসূল ﷺ বলেছেন:
“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় দিন এই দশ দিন। তাতে করা নেক আমল জিহাদের চেয়েও উত্তম।”
— (বুখারী, ৯৬৯)
🟢 ২. রোযা রাখা (১-৯ জিলহজ- সুন্নত)
“তিনি (নবী ﷺ) জিলহজের প্রথম নয় দিনে রোযা রাখতেন।”
— (আবু দাউদ: ২৪৩৭, সহীহ সনদে)
বিশেষ করে ৯ জিলহজ (আরাফার দিন):
“আরাফার দিনের রোযা বিগত ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়।”
— (মুসলিম, ১১৬২)
🟢 ৩. তাকবীর, তাহলীল, তাসবীহ, তাহমীদ
📌 বলতে পারেন:
➡️تَحْمِيدٌ — الحَمْدُ لله
➡️تَهْلِيلٌ — لا إِلَهَ إِلَّا الله
➡️تَسْبِيحٌ — سُبْحَانَ الله
📌 সাহাবীগণ বাজারে গিয়েও বলতেন:
الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، والله أكبر، الله أكبر، ولله الحمد
— (দারাকুতনী, ২/৫২, সহীহ সনদে)
🟢 ৪. ইস্তিগফার ও খাঁটি তাওবা করুন
“আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাও ও তাঁর দিকে ফিরে আস।”
— (সূরা হূদ, ৩)
🟢 ৫. কুরআন তিলাওয়াত, সালাত, সদকা বৃদ্ধি করুন
➡️নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ
➡️দরিদ্রদের জন্য দান
🟢 ৬. কুরবানির নিয়ত ও প্রস্তুতি নিন
"যে ব্যক্তি কুরবানি করতে চায়, সে যেন জিলহজ দেখা যাওয়ার পর থেকে পশু জবাই না হওয়া পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে।"
— (সহীহ মুসলিম, ১৯৭৭)
🟢 ৭. কুরবানির দিন (১০ জিলহজ) তাকবীর তাশরীক শুরু
🔹৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর একবার বলা ওয়াজিব: "اللّه أكبر، اللّه أكبر، لا إله إلا الله، واللّه أكبر، اللّه أكبر، ولله الحمد"
❌ বর্জনীয় বিষয়সমূহ
🔴 ১. গুনাহ থেকে বিরত থাকুন
“ভয় কর আল্লাহকে, নিশ্চয়ই আল্লাহ গুনাহের খবর রাখেন।”
— (সূরা মুজাদিলা, ৭)
🔴 ২. নামাজে অলসতা নয়
“আহা! যদি তারা সালাত কায়েম করত…”
— (সূরা আল-আনআম, ৯২)
🔴 ৩. দুনিয়াবি ব্যস্ততায় ইবাদত বিস্মৃত হওয়া
🔴 ৪. চুল ও নখ কাটা (যারা কুরবানি করবেন)
❌ জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে পশু কুরবানি পর্যন্ত কোনো চুল/নখ কাটবেন না (যদি আপনি কুরবানিদাতা হন)।
📝 সংক্ষিপ্ত উপসংহার:
✅ করণীয়:
ইবাদত + দোআ + রোযা + তাকবীর + সদকা + কুরআন
❌ বর্জনীয়:
গুনাহ + অলসতা + গাফেলতা + নামাজে অবহেলা
📌 “এই দশ দিন এমন, যার একটি রাতও হাজার রাতের চেয়ে উত্তম হতে পারে।”
🕊️ আসুন, আমরা এই বরকতময় দিনগুলোতে নিজেদের আত্মাকে শুদ্ধ করি।
No comments