🕋 হজের প্রতিটি দিনের কাজ (৮–১৩ জিলহজ্ব): সহজ ও সুন্দর গাইড
🕋 হজের প্রতিটি দিনের কাজ(৮–১৩ জিলহজ্ব)
🗓 মোট সময়কাল: ৫ দিন (৮ জিলহজ - ১৩ জিলহজ)
📍 স্থানসমূহ: মক্কা, মিনার ময়দান, আরাফাত, মুযদালিফা, কাবা, জমরাত
🌙 ৮ জিলহজ (ইয়াওমুত তারওইয়াহ) — মিনায় আগমন
📍 স্থান: মিনা
🕰️ সময়: ফজর পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত
🌙 রাতেই ইহরাম বাঁধা (তামাত্তু হজ্জকারীদের জন্য):
✅নিয়ত:نويت الحج وأحرمت به لله تعالى
(আমি হজ্জের নিয়ত করলাম এবং আল্লাহর জন্য ইহরাম বাঁধলাম)
🕋 মিনায় রওয়ানা:
✅ফজরের পর বা যোহরের দিকে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা
✅মিনায় গিয়ে:
➡️যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও পরদিনের ফজর নামাজ আদায় করবেন
➡️কসর সহ (২ রাকাআত) ও সময় অনুযায়ী আদায় করবেন
✅তলবিয়া পাঠ:
"লَ لَبَّيْك اللَّهُمَّ لَبَّيْك، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْك، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ"
📿রাতটি মিনায় অবস্থান করে ইবাদত ও দোয়ায় কাটানো
🌤 ৯ জিলহজ (ইয়াওমে আরাফা) — হজের মূল দিন
📍 স্থান: আরাফাত ময়দান
🕰️ সময়: যোহর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত
☀️ সকাল: মিনা → আরাফাহ
✅পৌঁছে জুহরের সময়:
➡️জুহর ও আসর এক আজান ও দুই ইকামতে একত্রে কসর করে আদায়
➡️ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করে ইবাদতে মশগুল হোন
🕋 আরাফাহতে অবস্থান: হজ্জের মূল রুকন
✅দোয়া, ইস্তিগফার, কান্নাকাটি, ক্বিরআত — যতটা সম্ভব!
✅দুনিয়ার সর্বোত্তম দিন — গুনাহ মাফের আশায় কান্না করে দোয়া করা
🌅 সূর্যাস্তের পর: আরাফা → মুযদালিফা
✅মাগরিব না পড়ে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা
✅মুযদালিফায় পৌঁছে:
➡️মাগরিব ও এশা একসাথে এশার ওয়াক্তে আদায়
➡️রাতে মাটিতে বিশ্রাম
🌃 ৯ জিলহজ রাত্রি — মুযদালিফায় রাত যাপন
📍 স্থান: মুযদালিফা
🕰️ সময়: রাত থেকে ফজর পর্যন্ত
📿রাত জেগে ইবাদত ও দোয়া করা
✅ফজর পড়ার পর সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত জিকির ও দোয়া
🪣৭০টি কঙ্কর সংগ্রহ (রামি করার জন্য)
🌞 ১০ জিলহজ (ইদুল আযহা) — কুরবানি, কঙ্কর নিক্ষেপ ও তাওয়াফ
📍 স্থান: জামারাত, কাবা, মিনা
সবচেয়ে ব্যস্ততম দিন!
📍 মুযদালিফা → মিনা
✅রওনা হওয়ার আগে ৭টি কংকর সংগ্রহ করবেন
🧱 ১ম কাজ: জামরাতে আকাবায় (বড় শয়তান) কঙ্কর নিক্ষেপ
✅প্রত্যেক কঙ্করের সাথে:
الله أكبر বলে নিক্ষেপ করবেন
🐐 ২য় কাজ: কুরবানি
✅সাধারণত সৌদি সরকারের কুপন সিস্টেমে হয়ে যায়
✂️ ৩য় কাজ: হালক বা কসর (চুল কাটা বা ছোট করা)
✅নারীরা: সামান্য (এক আঙ্গুল পরিমাণ) কাটা
🔁 এই তিন কাজের পর “তাহাল্লুলে আওয়াল (ইহরাম মুক্তি)” হয়ে যাবে:
ইহরামের অনেক কিছু হালাল হয়ে যাবে (সুগন্ধি, সাধারণ পোশাক, ইত্যাদি), তবে স্ত্রী সহবাস এখনো নিষেধ
🕋 ৪র্থ কাজ: তাওয়াফে ইফাযা (ফরজ তাওয়াফ)
➡️তাওয়াফ (৭ চক্কর)
➡️সাঈ (সাফা-মারওয়া)
✅এরপর “তাহাল্লুলে আখির” — সব নিষেধাজ্ঞা শেষ
📝 কেউ চাইলে তাওয়াফে ইফাযা পরে (১১-১২ তারিখে) করতেও পারেন।
🗓️ ১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ্ব — আইয়ামে তাশরীক (أيام التشريق)
📍 স্থান: প্রতিদিন মিনায় অবস্থান
✅তিনটি জামরায় (ছোট, মাঝারি, বড়) কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন
🧱 প্রতিদিন:
✅প্রথম দুটির পর দোয়া করা সুন্নত
✅বড় জামরার পর দোয়া নেই
🕰️ রমি সময়:
✅প্রয়োজনে রাতেও করা যায়
📅 ১২ তারিখ:
✅না হলে ১৩ তারিখের রমিও আদায় করবেন
📦 বিদায়ী তাওয়াফ (تطوع الوداع)
✅মহিলারা হায়েয থাকলে মাফ
🧭 সংক্ষিপ্ত রুট ম্যাপ:
| তারিখ | অবস্থান | মূল কাজ |
|---|---|---|
| ৮ জিলহজ্ব | মিনা | ৫ ওয়াক্ত নামাজ |
| ৯ জিলহজ্ব | আরাফা → মুযদালিফা | আরাফায় অবস্থান, রাতে মুযদালিফা |
| ১০ জিলহজ্ব | মিনা → কাবা | রমি, কুরবানি, চুল কাটা, তাওয়াফ |
| ১১–১৩ জিলহজ্ব | মিনা | ৩ জামরায় রমি |
✅ অতিরিক্ত টিপস
🧼 ইহরাম অবস্থায় গন্ধযুক্ত কিছু ব্যবহার নিষেধ।
📿 অবিরত জিকির, দোয়া, এবং কুরআন পাঠ চালিয়ে যান।
📸 ছবি তুলতে গিয়ে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটাবেন না।
No comments