পোস্ট ১৪: বিপদচিহ্নগুলো চিনে নিন - প্রি-এক্লাম্পসিয়া, নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রসব বেদনা ইত্যাদির লক্ষণ
গুরুত্বপূর্ণ বিপদচিহ্ন ও চিকিৎসা
১. প্রি-এক্লাম্পসিয়া (Pre-eclampsia)
🔹 তীব্র বা অসহ্য মাথাব্যথা যা সাধারণ ঔষধে কমে না।
🔹 চোখে ঝাপসা দেখা, আলোর ঝলকানি দেখা বা সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
🔹 পেটের ডানদিকে, পাঁজরের ঠিক নিচে তীব্র ব্যথা।
🔹 হঠাৎ করে মুখ, হাত ও পা খুব বেশি ফুলে যাওয়া।
🔹 বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
🔹 হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিরাপদ ঔষধ দেওয়া হয়।
🔹 খিঁচুনি প্রতিরোধের জন্য ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ইনজেকশন দেওয়া হতে পারে।
🔹প্রি-এক্লাম্পসিয়ার চূড়ান্ত চিকিৎসা হলো ডেলিভারি বা প্রসব করানো। শিশুর অবস্থা এবং গর্ভাবস্থার সময়ের উপর নির্ভর করে ডাক্তার নরমাল ডেলিভারি বা সিজারিয়ান সেকশনের সিদ্ধান্ত নেন।
২. নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রসব বেদনা (Preterm Labor)
🔹 নির্দিষ্ট সময় পর পর পেট শক্ত হয়ে আসা বা সংকোচন, যা ঘণ্টায় ৪-৫ বারের বেশি হয়।
🔹 কোমরের নিচের দিকে একটানা ব্যথা, যা জায়গা পরিবর্তন করলেও কমে না।
🔹 তলপেটে চাপ অনুভব করা।
🔹 যোনিপথে স্রাবের পরিবর্তন—পানির মতো, শ্লেষ্মা বা রক্তের ছোপযুক্ত স্রাব বের হওয়া।
🔹সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারকে জানান বা হাসপাতালে যান। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে অনেক সময় এই প্রক্রিয়াকে থামানো বা দেরি করানো সম্ভব হয়।
🔹জরায়ুর সংকোচন থামানোর বা কমানোর জন্য টোকোলাইটিক (Tocolytic) ঔষধ দেওয়া হতে পারে।
🔹 শিশুর ফুসফুসকে দ্রুত পরিপক্ব করার জন্য মাকে কর্টিকোস্টেরয়েড (Corticosteroid) ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা প্রি-ম্যাচিউর শিশুর শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি কমায়।
৩. গর্ভের শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া (Decreased Fetal Movement)
🔹 প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত খাওয়ার পর) বাম কাত হয়ে শুয়ে শিশুর নড়াচড়া বা "কিক কাউন্ট" করুন। ২ ঘণ্টার মধ্যে শিশু অন্তত ১০ বার নড়াচড়া করছে কিনা তা লক্ষ্য করুন।
🔹যদি মনে হয় শিশুর নড়াচড়া কমে গেছে বা ২ ঘণ্টায় ১০ বার নড়াচড়া পাচ্ছেন না, তবে
🔹শিশুর হার্টবিট পর্যবেক্ষণের জন্য নন-স্ট্রেস টেস্ট (NST) বা কার্ডিওটোকোগ্রাফি (CTG) করা হয়।
🔹আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে শিশুর স্বাস্থ্য, নড়াচড়া, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের পরিমাণ (Biophysical Profile) পরীক্ষা করে দেখা হয়।
৪. যোনিপথে রক্তক্ষরণ (Vaginal Bleeding)
🔹 সামান্য রক্তের ছোপ হোক বা বেশি পরিমাণে রক্তপাত, এটি একটি জরুরি অবস্থা। দেরি না করে সরাসরি হাসপাতালে চলে যান।
🔹কারণ নির্ণয়ের জন্য فوریভাবে আলট্রাসাউন্ড করা হয়।
🔹রক্তক্ষরণের কারণ ও পরিমাণ এবং মা ও শিশুর অবস্থার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা থেকে শুরু করে জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।
🔹 এই তরল প্রস্রাব থেকে ভিন্ন, সাধারণত বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং এর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
No comments